পাঁচটি কবিতা | দ্বীপ সরকার
অমানুষ
যে বিষের স্বীকৃতি নেই
তাতে অনুশোচনা লিখেছি আমি
যে ক্লান্তিতে তাপ নেই
তাতে গতর ঢেলেছি অযথায়
মুলতঃ ছোঁয়াচে আয়েশে
নিজেকে প্রমাণ করতে চেয়েছি—
হাটখোলার জটিল রাজনীতিবিদ আমি নই
খুব মতান্তরে ঢেলেছি অভিনয়
আঙুলে ছুঁয়েছি ক্রুশের চাবি
এ নিয়ে গ্রহ-মল্লিকাদের দায় নেই
নিতান্তই অবিক্রিত থেকে যাই আমি
প্রচুর জীবাণু ঘুরছে ফিরছে,জীবনে জীবনে
চুলের সিঁথিতে আলাপের সড়ক চলে গেছে
সেই সড়কে——
আমি নিতান্তই একটা অমানুষ দাঁড়িয়ে আছি
বোতলগৃহ ও অনাগত সূর্য
বোতলের গহীন থেকে বেরিয়ে এসে
ধাতব আকাশের নিচে দাঁড়াও
দেখো, প্রজাপতির নিশানায় তুমিও আছো
বোতলগৃহকে আমি বলি ‘মৃত নক্ষত্রের ছাইঘর’
তোমরা ওখানে বহুকাল ধরে ঘুমোচ্ছো
কোন একদিন এখানে সকাল হবে, শুনেছি
যে যার মতো নাচ বানাবে,ঘুড়ি বানাবে
রমণীরা শাড়ীর ভাঁজ খসালে বিজ্ঞানীরা বলবে
দেশে সকাল পড়েছে
তোমাদের দিকে অনেক প্রতিশ্রুতি ঝুলে আছে
অনেক ঋণ ঝুলে আছে জনে জনে
বোতলগৃহ থেকে এখনি বেরিয়ে আসার সময়
মাথাটা উঁচিয়ে,বেলকোনির দিকে তাকাও
দেখো,কলকলিয়ে হাত বাড়িয়েছে অনাগত সূর্য
শহর
শহরের সব আলো,আলো নয়
ট্রাফিক লাইটারের মতো কিছু আলো খুনী
এক যুগ আগে
এই ট্রাফিক লাইটারে নিচে খুন হয়েছিলাম
যেদিন খুন হয়েছিলাম,
সেদিনকার কথা মনে পড়ে——
হেলোজেন আলোর সড়কে প্রাণবনন্ত হয়ে
শুয়ে আছে কালো রাত
সিথানে আলো খুঁটছে রাজকীয় রমণীরা
রমণীরা, রাতের মতোন নীল নীল
আলাভোলা হয়ে,আকাশদূরে
আলো কুড়াতে দৌড়োচ্ছে সেই মতোন
উনপঙ্খিরা তখনও ফিরেনি জিলা স্কুলের অমসৃণ ছাদে——
আইনপাড়া বড্ড অন্ধকার,
দুঃখবাদী আইনজীবিরা রাত বারোটা পর্যন্ত
আইনের পাতা উল্টোচ্ছে
জেব্রাক্রোসিং এ আটকে গেছে দিনের ব্যস্ততা
এই সুযোগে,কে বা কারা——
দেখতে কিছুটা রঙিন রমণীর মতোন
আমাকে খুন করে,
চলে যায় শহরের পশ্চিম দিকের অন্ধকারে
নদীমহাল
উলঙ্গ যমুনা,শরীরে নেই রেশমি সূতোর শাড়ি
হাতে নেই মহুয়াবনের সবুজ চূড়িবন্ধনি
খুব বেখাপ্পা লাগছে——
এই তো ক’দিনের কথা
রোদরঙা চুড়িতে ঢের মানিয়েছিলো তোমাকে হে নদী
পাঁজরে গুঁজিয়ে রেখেছিলে প্রবাল দ্বীপ
সামান্য কাতুকুতু পেলেই.আছড়ে পড়তে সমানে
এই নদীকে আদীকাল থেকে চিনি
তুমি কি চেনো হে ঈশ্বর?
তুমি কি চেনো এর অদ্ভূদ অন্ধকার?
এই যে উলঙ্গ—বিবস্ত্র আনাচে কানাচে
তবু কি গভীরে যেতে পেরেছো তুমি?
চৈত্রের নদীর দিকে তাকালে
মাহফুজার কথা মনে পড়ে
এই চৈত্রে নদী যেমন সংসার গোছাচ্ছে——
মাহফুজাও সযতনে গুছিয়ে নিয়েছিলো কচি সংসার
তারপর যখন,একা হয়ে গেলো
এস্ট্রেতে জমতে থাকলো দুঃখ দুঃখ ছাই
মন খারাপের সংকট নিয়ে
নদীরাও বিবস্ত্র হতে থাকলো
চারদিক চিকচিক ঢেউ খেলানো অন্ধকার
ব্যাক্তিগত লেক
জেলগেটের লেকজুড়ে বনহংসি হাওয়া,
থত্থর করে কাঁপছে ক্যালাডিয়াম
মরে যাওয়া বিকেল উঠে দাঁড়াচ্ছে এখানে
এখানে নাকি জীবন ফিরানো যায়
এখানে, বিশ্বাসের বীজ পুঁতেছে সবে পৌরকমিশনার
তাই তো,হাতে হাত রেখে উড়ছে প্রেমিক প্রেমিকা
অভিমাণ ভাঙ্গানোর বীজ পুঁতেছে,
এ্যাশ কালারের ব্লকের নিচ দিয়ে
তাই তো, কতিপয় বালক বালিকরা টইটুম্বর বেশ,
ঠোঁট গলে যাচ্ছে,আরেক ঠোঁটে
আমি বিকেলের যাওয়া নিয়ে ভাবছি
আর মাত্র দশ মিনিট
বিকেলটা চলে গেলে আমার আর থেকে কাম কি
আমার তো ও রকম ব্যাক্তিগত লেক নেই!
আরো পড়ুন....
মিনিখ ও মেরাজের নৈঃশব্দ পড়ুন এখানে
কবিতা অরফিয়াস পড়ুন এখানে
বাংলা একাডেমি পড়ুন এখানে
মাটির হেঁসেল পড়ুন এখানে
উপসচিব ও অন্যান্য কবিতা পড়ুন
ছবি ব্লগ কিস্তি ২ এখানে
জুবিলিদের পাশের বাড়ির মেয়েটি পড়ুন এখানে
কবিতা উপসচিব ও অন্যান্য পড়ুন এখানে
অন্ধ আয়নার গল্প পড়ুন এখানে
মেডিকেল ও কাঁটাপাথর এখানে পড়ুন
গোলাম কিবরিয়া পিনু'কর্মকান্ড নিয়ে বিন্তর আলোচনা পড়ুন
৫টি কবিতা পড়ুন এখান
সোনালী কাবিন পাঠ আলোচনা এখানে
পাঁচটি কবিতা পড়ুন
ঝাউপাতার ঝাঁপতাল এখানে পড়ুন
ছবি আর্কাইভ ১ দেখুন
দেহখানি তার চিকন চাঁদ এখানে


0 মন্তব্যসমূহ
ধন্যবাদ আপনাকে