মেডিকেল,আমার বোন ও কাঁটাপাথর এবং অন্যান্য কবিতা।। medical, anar bon o kata pathor and other poems।। দ্বীপ সরকার আর্কাইভ


দ্বীপ সরকার।। কবিতা



দ্বীপ সরকার এর গুচ্ছকবিতা

ভোটের দৃশ্য


ভোট কেন্দ্রে যাচ্ছি——
সাক্ষী বাতাসগুলো ফিরে তাকাচ্ছে না
ভোটের দৃশ্যের ছবি তুলছে মেঘের ক্যামেরা

দুপুরে——লাঞ্চের সময়, ভিরভাট্রা নেই বললেই চলে
এই ফাঁকে ওঁত পেতে থাকা সসস্ত্র হরিণদল ঢুকে পড়ে,
ছিনতাই করে নিয়ে যাচ্ছে ব্যালট বাক্স
দুঃখভারাক্রান্ত হৃদয়ে কাঁপছে সিলহীন মার্কাগুলো
পুলিশ প্রশাসন নির্বিকার
আমি মনের প্লেটে দুঃখ লিখছি
হাতের ভেতর কষ্টের পোকারা প্রতিবাদী হয়ে উঠছে

আমি সবকিছু দেখে ফেলেছি——
অন্তর্বাসের ভেতর কারা হাত ঠুকিয়েছিলো,
তারপর কারা দৌড়ে দৌড়ে আনলো
সুঘ্রানমাখা সিল ও ব্যলট
হরিণগুলোকে আমি চিনে ফেলেছি——
তাদের কেউ চেংড়া হরিণ, কেউ অর্ধবয়সী
তাদের কারো মাথায় তেড়াবাঁকা শিং নেই
মাথায় আছে শিঙের মতোন কালো কালো হেলমেট

সবাই বেরিয়ে এসেছে
হই হুল্লোড় চারদিক
কেউ একজন দেখে ফেলে——
পাশের নোংরা ডোবায়
আমাদের ব্যালটগুলো মিছিল তুলেছে

আকাশে মেঘের ক্যামেরা,ছবি তুলছে
বাতাসও নির্বিঘ্নে ছড়িয়েছে হিম্মতের ডানা
আমরা টিভিতে বসে আছি——
এই সংবাদটা পাবো কী?



মেডিকেল,আমার বোন ও কাঁটাপাথর


সুখবর এলো,আমার বোনের অপারেশন সাকসেসফুল
সিস্টারের হাতে একটা চিকচিকে স্টিলের  বাটি
তার ভেতর একটি মাঝারি চাকু হেসে বললো.
‘এই নিন আপনার বোনের পাথরগুলো’
আমি তা পলিব্যাগে ভরিয়ে নিলাম সশব্দে
পাথরের শরীর কাঁটা কাঁটা এবং
অদ্ভূদ রঙের—না লাল,না হলুদ

বোন আমার ফিরে আসে পোস্ট আপারেশন রুমে——
মুখ থেকে বেরোচ্ছে সুগন্ধিযুক্ত গঙানি
চারপাশ দূর্গন্ধময়——ছুপ ছুপ কেমিক্যালযুক্ত হাওয়া
আমি টের পাই—বোন আমার কতোটা নিষ্পাপ

আমি জিজ্ঞেস করি সিস্টারকে——
মানুষের পিত্ত্বথলির ভেতর এতো আঁটসাঁট করে
কিভাবে ঘর বাঁধে ওরা?
সিস্টার উত্তর দিয়েছিলো—
মানবদেহের ভেতর এরকম অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সংসার আছে


আরো পড়ুন

অন্ধ আয়নার গল্প পড়ুন এখানে
মেডিকেল ও কাঁটাপাথর এখানে পড়ুন
গোলাম কিবরিয়া পিনু'কর্মকান্ড নিয়ে বিন্তর আলোচনা পড়ুন
৫টি কবিতা পড়ুন এখান
সোনালী কাবিন পাঠ আলোচনা এখানে
পাঁচটি কবিতা পড়ুন
ঝাউপাতার ঝাঁপতাল এখানে পড়ুন
ছবি আর্কাইভ ১ দেখুন
দেহখানি তার চিকন চাঁদ এখানে
নীলিতারা পড়ুন
দ্বীপ সরকার পরিচিতি পড়ুন
যোগাযোগ করুন এখানে


সিসিইউ, মেডিকেল ও মৃতময় একটা রাত

মেডিকেলের আকাশে উড়ছে বাউন্ডুলে পাখি——
পাখির গুঞ্জনে বসন্তের মর্মর নেই
অথচ ফাগুনপাখিরা আগে মাতিয়ে তুলতো——বেশ
পাখিদের ডানা থেকে খসে পড়ছে কান্নার সংকেত
তবুও আমি কেতাদুরস্ত দর্শকের মতো
ঢুকে যাচ্ছি সিসিইউ বিভাগে

আমার দুরন্ত পা খুব ধীরে ধীরে সিঁড়ি ভাঙছে
চোখের উঁচুতে ভয় দাঁড়িয়ে আছে
ভিড়ের মধ্যে পাঁজর থেকে খসে পড়ছে গরম নিঃশ্বাস
এবার কবি বাঁচবেন তো!

নার্সের বিপি মেশিন দৌড়োচ্ছে, রোগীর বুক থেকে পাঁজরে
আবার পাঁজর থেকে অন্য কোথাও
হার্টের বেলুন উইপোকার ঢিবির মতো উঠছে নামছে
কারোটা ফুলস্টপের কাছে রেখেছে পা——
কখন চলে যায় যায় ভাব!

আমার চোখে ছলছলময় ধূঁয়োনদী
ভিড়ের ভেতর ভাবি,পৃথিবীটা আসলে রোগীময়!
এতো রোগী——পাখির মতো উড়ছে এথারে ওথারে,
রোগীর সিথানে লাল,সাদা,হলদে রঙের টেবলেট
যেদিকে রাত ছড়িয়ে দিয়েছে ডানা——ঘুটঘুটে অন্ধকার,
জানালার ফাঁকে পাখিদের শিসে উড়ে আসে
আরো এক মৃত্যুর গান



রেললাইনের স্লিপারের শব্দ


রেললাইনের স্লিপারের শব্দ
মনে হচ্ছিলো প্রেমিকার গঙানী
আমি থমকে দাড়িয়ে ভাবছি
ক্রোন্দনরত প্রেমিকার শরীরে
ঢুকবো কিভাবে

ট্রেন চলে গেলো——
আমার আর যাওয়া হলো না
ব্যাগে প্রেমিকার কান্না ভরিয়ে
বাড়ি ফিরছি



আমার অনুরাগি পাঠককুল!

হে আমার অনুরাগি পাঠককুল!
তোমরা যারা হাসো না——বহুদিন
আমার বইয়ের সিঁড়ি ধরে ওঠার চেষ্টা করো,
দেখবে, তোমাদের হাসিগুলো
রঙিন অক্ষরের মতোন দৌড়োচ্ছে

আমার বইয়ের একটা নির্দিষ্ট সীমারেখা আছে
আছে নির্দিষ্ট ভূ-খন্ড
সীমানাজুড়ে চারদিকে দৌড়োনোর সড়ক আছে
দুই দিকে ওঁত পেতে আছে লক্ষ্মীপেঁচার দল
বাঁকি দুই দিকে ওঁত পেতে আছে
ভাঙ্গাচোরা শিং ওয়ালা কিসিমের হরিণ

তোমাদের মাতিয়ে রাখার সমস্ত দায়িত্ব নিয়েছে ওরা

যারাই আসবে, নেচে গেয়ে মাতিয়ে রাখবে
কালো অক্ষর দিয়ে গান, আর রঙিন অক্ষর দিয়ে মিউজিক
প্রচ্ছদের দৃশ্য নিয়ে লাইলী মজনু নাটক বানাইছে ওরা
তোমরা বেশি বেশি আসো, বেশি বেশি হাসো




একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ