দ্বীপ সরকার এর পাঁচটি কবিতা
পাথরময় কালো হাওয়া
তোমার দুঃখ সরে গেছে, তোমার থেকেসঙ্গে সঙ্গে তুমি পাল্টে গেলে
শুরু হলো ঘুড়িজীবন
তুমি উড়তে থাকলে
এ শহর , ও শহর
এই আকাশ থেকে ওই আকাশে
ম্যাজিক বিভ্রমে শিখে যাচ্ছো পৃথিবী
আস্তে আস্তে তোমার হৃদয় জমে যায়
জমিয়ে যাচ্ছে ঢের——
পাঁজরে নির্মিত হচ্ছে পাথরের বেরিকেড
সময়ের আবর্তে,সময় খুব বেশি নয়
দশ মাস. বড়জোর এক বছর
কোন এক বিকেলে,শহরের বইমেলায় দেখা
তোমার মুখের চারপাশে ফিনকি দিয়ে ওঠা তামাটে রোদ
আমার দিকে তেড়ে আসে
তেড়ে আসে,
হৃদয়ে জেগে ওঠা পাথরময় কালো হাওয়া
আমি নিশ্চুপে চলে যেতে থাকি
কোথাও কোন হৃদয় নেই
একদা একজনকে হৃদয় দিতে চেয়েছিলাম
তার জন্য একটা হৃদয় দরকার
খুব ছোট হলেও চলবে
যে কোন রঙের, যে কোন ভাষার——
শুধু হৃদয় রাখতে পারলেই হলো
পঁচিশ বছর কেটে গেলা
দেখা দেখি হয়েছে অনেক
চোখা চোখি হয়েছে অনেক
রঙিন ফড়িং এ কেউ উড়তে গেছে
সেখানেও গেছি বহুবার
কেউ বই মেলায় এসেছে কালো অক্ষরে
একটা হৃদয় পাবো বলে, তাকেও কিনেছি অনেক
সেদিন এক রমণী ফ্লাইওভার পার হচ্ছে
কোথাও হোঁচট খাচ্ছে দেখে
আমি হাতে হাত ঠেকে পার করে দিলাম
তার কাছে অজস্র হৃদয় ছিলো
গেলো ঈদে মার্কেটে ঢুকেছিলাম একদিন
চারপাশে অসংখ্য রমণী, রমণীরা——
গা ঘেঁষে ঘেঁষে চলে যাচ্ছে
তাদের কারো ঠোঁট চাঁদের মতোন বাঁকা
কারো চোখ আকাশের মতোন বিস্তর নীল
ছোট ছোট হলেও, অন্তত একটা করে হৃদয় থাকারই কথা
কোথাও কোন হৃদয় নেই
পঁচিশ বছর কেটে গেলো
কোন হৃদয় পাইনি কোথাও
চুমুর বিজ্ঞাপন
ঈশ্বর জানেন——
ভুল পাত্রে হৃদয় দিতে নেই
জানো তো,
তোমার হৃদয়ে সে কারণেই হৃদয় নেই
ঈশ্বর জানেন——
কার হৃদয়ে,হৃদয় পুঁতলে সোনা ফলে
কার হৃদয়ে বৃষ্টি পুঁতলে,চারা ফলে
তোমার হৃদয়ে সে কারণেই হৃদয় নেই
হৃদয় পেয়েও কেউ কেউ হেলেন অব ট্রয় হয়ে ওঠে
কারো শরীরে রাসপুটিন মাথা চারা দিয়ে ওঠে
——রাসপুটিনও কম সাধু ছিলেন না
হেলেন অব ট্রয়ের হৃদয়ে,
সোনা ফলাতে চেয়েছিলেন ঈশ্বর
রাসপুটিনের সাদা শুভ্র দাড়ির ভেতরেও
ফুটাতে চেয়েছিলেন ফুলের বাগান
এই ভেবে ভেবে
আমি হৃদয় দিতে পারিনি কাউকে, কোথাও——
কার ঠোঁটে চুমু দেবো?
কার ঠোঁটের নকশা এঁকে বিজ্ঞাপন ঝুলিয়ে দেবো?
ভোট
ব্যালটের ভেতর ভেসে উঠেছে প্রিয়ার মুখ
ব্যলটের মার্কাগুলো প্রিয়ার চোখের মতোন চেয়ে আছে
যে চোখটি অতি পরিচিত——রুপো রঙের,
তার মাঝখানে আমার সিল ঢেউ তুলতে চায়
প্রিয়তমার মতোন অনেক প্রিয়তমা দাঁড়িয়েছে সমুখে
কারো তিলটা নাকের ডগার ওপরে
কারো তিল, ডান গালের নিচে ঝুলে আছে
কারো চুল ঝাউগাছের ভাষা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে
কেউ নেফারতিতি, কেউ লাইলী, কিংবা বনলতাসেন
নির্বাচন কমিশন সকলের ছবি এঁকে
ব্যালট তৈরি করেছেন
আমার ভুল হয়নি চিনতে
ডোড়াকাটা ছবিটি যেই হেসে উঠেছে
আমি দ্রুত সিল মারার কাজ সারি
ভোট ২
মনে হয়েছিলো——
একদিনের অতি ক্ষমতাধর রাজা আমি
বুথের দরজায়——নিঃশ্বাস উড়ছে ভোটারদের
চোখে আগুন নিয়ে আমিও দাড়িয়েছি
আজ আমি একটা প্রতিবাদ জমা দিতে এসেছি
সাদা বাক্সের ভেতর সুক্ষ্ণ চিঠির মতো গুঁজিয়ে দিয়ে চলে যাবো
তারপর তোমরা যখন, সাদা বাক্স এক এক করে খুলবে
দেখবে, আমার ব্যলটদের রঙিন প্রতিবাদ
আজ ভোরে কি যে আহ্লাদে, পুনঃজন্মের মতো জেগে উঠেছি!
ঘুমের ভেতরেও দেখি খেলা করেছে সাদা——কালো মার্কাগুলো
ভোর থেকে চারদিকে তই তই করছে——
আমরা আজ দেখিয়ে দেবো
আরো পড়ুন...
অন্ধ আয়নার গল্প পড়ুন এখানে
মেডিকেল ও কাঁটাপাথর এখানে পড়ুন
গোলাম কিবরিয়া পিনু'কর্মকান্ড নিয়ে বিন্তর আলোচনা পড়ুন
৫টি কবিতা পড়ুন এখান
সোনালী কাবিন পাঠ আলোচনা এখানে
পাঁচটি কবিতা পড়ুন
ঝাউপাতার ঝাঁপতাল এখানে পড়ুন
ছবি আর্কাইভ ১ দেখুন
দেহখানি তার চিকন চাঁদ এখানে

0 মন্তব্যসমূহ
ধন্যবাদ আপনাকে