মাটির হেঁসেল ও আমার মা।। অন্যান্য কবিতা।। poem of mother's day।। দ্বীপ সরকার আর্কাইভ

মাটির হেঁসেল ও আমার মা।। দ্বীপ সরকার



মাটির হেঁসেল ও আমার মা


সন্ধ্যায় মাটির হেঁসেলের চারপাশে বসে আছে বোন—ভাগ্নিগণ
মা’র হাসিতে কি যে আহলাদ!
চোখের ভেতর বয়ে যাওয়া কি যে রুপোলি চাউনি!
তেলপিঠার রমরমা ঘ্রাণ বৌচির মতো খেলে যায়,
হাতের পিঠে গরম তেল, ফোসকা পড়ে
তবওু মা’র মুখে খুসির ঢেউ আছড়ে পড়তেই থাকে
দুধপিঠার প্রতিটি ফোঁরে——তীক্ষ্ম নজরদারি তার

আগুন হেঁসেলে, পৌষহাওয়ার ভিড়
গায়ের চাদরে ঝুলে, তেলপিঠার দাগ
আহলাদের শিসে বোন ভাগ্নিদের হাসির দোল
কবজিজুড়ে সোঁদালি ঘ্রাণের দৌড়
মা আমার তখনো অতি ব্যস্ত মানুষ!

রাতের ডাইনিং-এ, আস্তে আস্তে জড়ো হয় ঘ্রাণের স্তূপ
আমরা বসি চারদিক গোল করে——
গোল গোল চোখ নেচে যাচ্ছে সকলের
গোল গোল তেলের বড়া, গোল গোল আন্দেসা
রাতের প্লেট, জোসনার মতো আলোকিত হয়
মা তখনও কিছু মুখে দেয়নি

মা’কে বলি——তুমিও বসো মা
মা শুধু হাসে
এই হাসিতে এতো আলো ছিলো——
যেনো, পুরো ডাইনিং-এ জোসনা ফুটেছে


ভুল সংসার

কাকতারুয়ার মত ডানা ঝাপটানো ভঙিতে
আমার ভেতর একটা অতীত ঝাপটায়
খনিজ পদার্থের মতো হৃদয় ভারি হয়
মনের আঙিনাজুড়ে উঁচু টিলার মতো
লাল মাটির পাহাড়

আমি চাইনি তা——
বরং চেয়েছি
নেদারল্যান্ডের টিউলিপ বাগান হই
আমার ভেতরে উড়ুক অভিবাসি সারস,
ঠোঁট বাঁকানো টিটি পাখি
চেয়েছি, গ্রাীস এর অলিম্পাস হই
আমার শরীরে বুনোজলপাই গজিয়ে উঠুক

ভুল, সব ভুল——
ভুল লক্ষ্যে ছুঁড়েছি নিবেদন
ভুলগন্তব্যে গজিয়ে উঠেছি অহেতুক আমি তুমি,
ভুল মানুষে বেঁধেছি, সংসারে



ইফতার

ঈশ্বর ইশারায় বলছে’
“সময় হয়নি বৎস”

নিষেধাজ্ঞা যেনো ট্রাফিক লাইটারের মতো
‘সময়’কে লাল টিক চিহ্ন দিয়ে রেখেছে
পারাপার করা অপরাধ

এই পাড়ে আমি——ও পাড়ে ঈশ্বর
এই পাড়ে প্রতীক্ষা— ও পাড়ে নিষেধাজ্ঞা

আমি অপরাধের ভঙ্গিমায়
দৃশ্যত একজন রিপু হত্যাকারী

প্লেটে সারি সারি পিঁয়াজু,ফল, মুড়ি
তৃষ্ণার গাড়ি ছুটছে ঠোঁটের সড়কে
মুখে দিচ্ছি না কিছুই

আমি বড্ড অপরাধী আমি
নিষেধাজ্ঞার সড়ক পেরিয়ে যাচ্ছি না
তৃষ্ণার্ত চোখে প্রতীক্ষা,খালি প্রতীক্ষা!



ভাষা ও শিল্প

ভাষাকে দিয়েছি আত্না
অক্ষরকে দিয়েছি শরীর
তবুও আমার ভাষাকে
তোমরা আটকাতে চাও

অক্ষরের চোখে বারুদ
ভাষার আত্নায় শিল্প
বারুদ আর শিল্প মিলে
কখন যে ভাষা হয়ে উঠেছি আমি

আমি যখন কথা বলি
বারুদের মতো লাগে
আমি যখন লিখি
কবিতার মতো লাগে

কত যে শিল্পসম্মত অক্ষর
কত যে মায়াভরা উচ্চারণ
"ভালোবাসি"বললে
ক্রাশ না খেয়ে পারে না|

কী আছে এইটুকুন শব্দে!
কী যে পরাগের মতো রুপ!
আমার প্রেমিকা যখন তাকায়—
অক্ষরগুলো “ভালোবাসি” হয়ে যায়

আমার মা যখন চেয়ে থাকে
অনুচ্চারিত কিছু একটা ভেসে আসে
চোখে তার কত যে ভাষা!
হাতের কাঁকনে কত যে শিল্প!
মুখের ভাষা কখনও নদী
কখনও ধানক্ষেত
ঘুম থেকে উঠলেই চোখে
ফোটে অক্ষরের গোলা


বসন্ত ও আমার কবিতারা


কদমের ডালে ডালে যেনো শিরি ফরহাদ ফুটে আছে
হলদে দুপরে, দুরন্ত বাতাস ওতো—সতো প্রেম বুঝে না
বাতাস কেবল ভাঙ্গে,গড়ে আর কি!
এক দুপুরে দেখি, শিরি ফরহাদ কদমতলে পড়ে আছে

আমের মুকুলে নেফারতিতি আখেনাতেন,
পিরিত জমিয়েছে দেখার মতো
বহুদিন বৃষ্টি নেই——
নেফারতিতিরা শুকিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে
বসন্ত তাদের ভেতর ফুটাতে চেয়েছিলো আম
এবং আমের মতোন সবুজ সন্তান সন্ততি

বনলতাসেনের কথা মনে পড়ে খুব——
সজনের মতো ঝুলে রেখেছিলো তার ঘন চুল
সেদিন ভোরে হাঁটতে দেখি, সেটাও নেই ডালে
সেদিন থেকে বনলতাকে হারিয়েছি

আমার জীবনে একটা কোকিল সুর তুলেছিলো এই বসন্তে——গত বছরে
সেই সুরে নেচে উঠেছিলো আমার বাগানের রক্তজবা
আজ সেই কোকিল নেই
আমার বাগানে আর রক্তজবা নেই

দেশে বসন্ত আসে—যায়, ফুল ফোটে—ঝরে যায়
হলদে রমণীরা খোঁপায় গাঁদা রাখে, বা রাখে না
অন্তত আমার মস্তিস্কে বসন্ত ঢুকিয়ে দাও, হে ঈশ্বর
কথা দিচ্ছি, মাথা থেকে শুধু বসন্ত প্রসব করবো, যদ্দিন বাঁচি
কালো অক্ষরের কবিতা লিখবো,শর্ষে রং দিয়ে
কবিতার শরীরের পরিয়ে দেবো হলুদ ভাষার শাড়ি


আরো পড়ুন.....


উপসচিব ও অন্যান্য কবিতা পড়ুন
ছবি ব্লগ কিস্তি ২ এখানে
জুবিলিদের পাশের বাড়ির মেয়েটি পড়ুন এখানে
কবিতা উপসচিব ও অন্যান্য পড়ুন এখানে
অন্ধ আয়নার গল্প পড়ুন এখানে
মেডিকেল ও কাঁটাপাথর এখানে পড়ুন
গোলাম কিবরিয়া পিনু'কর্মকান্ড নিয়ে বিন্তর আলোচনা পড়ুন
৫টি কবিতা পড়ুন এখান
সোনালী কাবিন পাঠ আলোচনা এখানে
পাঁচটি কবিতা পড়ুন
ঝাউপাতার ঝাঁপতাল এখানে পড়ুন
ছবি আর্কাইভ ১ দেখুন
দেহখানি তার চিকন চাঁদ এখানে
নীলিতারা পড়ুন
দ্বীপ সরকার পরিচিতি পড়ুন
যোগাযোগ করুন এখানে


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ