মনে পড়ে——পড়ে মনে তাকে
আমার স্মৃতির ডাইসটা পুড়ে গেছে, সেই কবে
তবু মনে পড়ে—পড়ে মনে তাকে
যাকে এঁকেছিলাম ঠোঁটে——‘হেলেন অব ট্রয়’ ভেবে
প্যারিস দূরে দাঁড়িয়ে, ট্রয় নগরে সন্ধ্যা নামছিলো তখন
দূরত্বগাছে ঝুলে আছে হেলেন
বসন্ত ঝড় খুনসুটি ছড়িয়ে দিচ্ছে গোলাপী আকাশে
হেলেনের উগ্রচুল দীর্ঘ হতে থাকে
প্যারিস সড়কে তখন রাতের অন্ধকার প্রকট——
রাতবিশারদগণ বলছিলেন,
হেলেন দুঃখ পেলে প্যারিসে অন্ধকার নামে
আমার পাঁজরে ফুটেছিলো একদা——বাদামী ওম
ওমের ভেতরে অপরুপে গজিয়েছিলো চোখ যার
তাকে মনে পড়ে—— মনে পড়ে তাকে
যাদুকরি বর্শি
আমি মুক্তি চাই——তোমার থেকে
এই ভেবে——
একদিন গোপনে পুকুরে ঢুকে যাই
আমি সাঁতরাচ্ছি, ঢেউ খেলে খেলে
তাড়া খাচ্ছি, ফের দৌড়োচ্ছি
আমি হতে চেয়েছিলাম অরফিউস!
তুমি ইউরিডিসি!
অদ্ভূত নিয়তি!
একদিন কাকতালীয়ভাবে
তোমার গোলাপি হাত, হয়ে গেলো যাদুকরি বর্শি
যেই নিক্ষেপ করলে পুকুরের বুক বরাবর
আমি ঝুলে গেলাম সুন্দর মতোন!
রমণীডিঙি
ডিঙির সাথে আড়ি আমার,বহুদিনের
চেয়েছিলাম ডিঙিতে একদিন ভাসি
আমিও ঋণে লিখি নাম——
দক্ষিনের হাওয়ায় একটা ডিঙি ভাসছে——
অদ্ভূদ নাচছে ডিঙির কাঠের শরীর
লাজুক ঢেউ, ধাক্কা দিচ্ছে আর শরম পাচ্ছে
ডিঙিটা রমণীী হয়েছে সবে,
কাঠের শরীরে উজবুক স্তন দুলছে
হেলে দুলে হারিয়ে যাচ্ছে দূরের সিগন্যালে
রমণীডিঙির মুখে ঘোমটা নেই——
সোনালী বাঁকা ঢেউ, তুলে নিয়েছে চুলের মগডালে
রমণীডিঙির কপালে, চোখ নেই——
নিজের ছায়া ছাড়া কিছুই দেখে না
ঘাটে দাঁড়িয়ে আমি কারো জন্যে অপেক্ষা উড়োচ্ছি
চিৎকার দিয়ে বলছি——আই লাভ ইউ, আই লাভ ইউ
রমণীডিঙি আসলো না——
আমার আর ঋণে, নাম লেখা হলো না
রিপু
যে শহরে স্লোগান নেই, মিথ ভাঙ্গেনি যুবারা এখনো
যে শহরে মন্দিরে জমেছে নকল সিজদার ঢিব
যে শহরে আলো নেই——
ফ্লাইওভার পেরিয়ে, চমৎকার অন্ধকার
ধরো,সাতমাথার সাতটি মাথায়
বনানী থেকে মাটিডালি
শহরের আনাচে কানাচে অসংখ্য রিপু
ঢাকার ওলিতে গলিতে রিপু
চারদিকে রিপু দিয়ে লাল বৃত্তের চিহ্ন এঁকে বলছে
“এর বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধ”
জার্মানির আকাশেও সাদা মেঘ জমতে দেয়নি হিটলার, বহুদিন
বন্দুক পদ্ধতিতে নির্মাণ করেছিলো রেজিমফুল
ইতালিতেও ঝড় তুলেছিলো বেনিতো মুসোলিনি
বারুদের আয়নায় এঁকেছিলো রোমের প্রতিটি সড়ক মহাসড়ক
সোনার প্লেটে, রুপোর ভাত দিতে চেয়েছিলো জনগণের মুখে
লাভ হয়নি, তাতে——কোনটাই
না জার্মানি,না ইতালি
আমাদের শহরের মোড়ে মোড়ে রিপু
ইতিহাসের পাতায় পাতায় রিপু
এর চাইতে গণিকারা ভালো
এদেও কোন ঝঁকি নেই, রিপু নেই
আসো——হে যুবারা
এই শহরে তোমরাও রেখে যাও কিছু
রিপুটা ভাঙা খুব দরকার
জুবিলিদের পাশের বড়ির মেয়েটি
জুবিলিদের পাশের বাড়ির মেয়েটি
তার নাম রুমকি
প্রতি মাঘে শীত পড়লে
অদূরে অ্যমাজন রেইনফরেস্টে
প্রেমিকের সন্ধানে বের হয়
চারদিকে উড়ছে শীতের ড্রোন——
রেইনফরেস্ট খুব একা হয় রাত নামলে,
বাঁশঝাড়ে আটকে আছে অন্ধকারের চুল
রুমকি আসে মৃদুপায়ে——পিনপতন নিরবতায়,
কপালে মেরুনরঙা টিপ,সাদা শুভ্র সূতি শাড়ি
তারপর আরো একটু হেঁটে গেলে, একটি ভাঙ্গাচোরা কবর,
থেকে থেকে বাঁশের খারাল, দাঁত বের করে বলছে
“তোর কি মনে পড়লো আজ?”
রুমকির দুই হাতে অর্চনা ঝরছে
ক্ষমাগুলো চোখের তারায় তারায়——
রুমকি নিজেকে মেরে ফেলে রাখে অনেকক্ষণ
যেনো, রক্তহীন কোন প্রাণী——মরে আছে অবচেতনে
যেনো, ঘুমহীন পাখি——মরে আছে
নিজের ভেতর একটা লাশ——আঁটোসাঁটো হয়ে আছে
রুমকি এভাবে ম’রে, বেঁচে ওঠে
বেঁচে উঠে ফের সাদা হয়ে ওঠে শরীর
সময়ের ফ্রেম ভেঙ্গে গেছে অনেকটা,সময়ের আবর্তে
পৃথিবী ভাঙছে, গড়ছে——
রুমকি ভাবে,
রেইনফরেস্ট তার কতকালের চেনা!
আরো পড়ুন...কবিতা উপসচিব ও অন্যান্য পড়ুন এখানেঅন্ধ আয়নার গল্প পড়ুন এখানেমেডিকেল ও কাঁটাপাথর এখানে পড়ুনগোলাম কিবরিয়া পিনু'কর্মকান্ড নিয়ে বিন্তর আলোচনা পড়ুন৫টি কবিতা পড়ুন এখানসোনালী কাবিন পাঠ আলোচনা এখানেপাঁচটি কবিতা পড়ুনঝাউপাতার ঝাঁপতাল এখানে পড়ুনছবি আর্কাইভ ১ দেখুনদেহখানি তার চিকন চাঁদ এখানেনীলিতারা পড়ুন

0 মন্তব্যসমূহ
ধন্যবাদ আপনাকে