উপসচিব ও অন্যান্য কবিতা।। Deputy Secretary by dweep sarkar।। দ্বীপ সরকার আর্কাইভ

দ্বীপ সরকার।। কবি


যুদ্ধ


অভারব্রীজের নিচে ডিম বিক্রেতা——
তার মুখে শর্ষেফুলের মতো হাসি নেই
কেনো নেই?

ইফতার শেষে আমার বাবা আলহামুল্লিাহ বলে হাসতেন
তার মুখেও ঘুটঘুটে অন্ধকার
কেনো?

পৃথিবী, এক জটিল ব্লাকহোলের দিকে——
ভীষণ অন্ধকার, নিস্তব্ধতার তাকে তাকে সাজানো ড্রোনফুল
লতানো লাউশাকের মতোন
সিস্টেমেটিক পদ্ধতিতে ঝুলে আছে পৃথিবী

ওভারব্রীজের নিচে অল্প শিক্ষিত ডিম বিক্রেতা
খবরের কাগজ খুলে দেখে, লাউশাকের মতোন
ধুঁয়োরকুন্ডলি আকাশের দিকে শোরগোল তুলেছে,
বাজারে, আমার বাবা পত্রিকা খুলে দেখে——
কালো অক্ষরের ভিড়ে রক্তজবা চিকচিক করছে,
একটা শিশু আকাশের দিকে তাকিয়ে হরানো মা’কে ডাকছে
বাবা ইফতার শেষে আলহামদুল্লিাহ না বলেই, উঠে চলে গেলেন
ডিম বিক্রেতা সেদিন, অর্ধ দামে ডিম বিক্রি করে
পকেটে কষ্ট নিয়ে বাড়ি ফেরেন



হামাদা

পাঁচ বছর পর আবার হামাদায়
শীতের রেওয়াজ ভাঙতে শুরু করেছে সবে——
বালুর ঢেউ তোলা নকশার ভেতর ক্যাকটাসে ভরে গেছে,
খেজুরবৃক্ষ আগের মতোন নেই

মরিয়ম খেজুরে জিব ঠেকালে চকচক হয়ে উঠেছি কতো!
সোনালী রোদের পাঁপড়িতে, সেইবার উড়েছি কতো!
কতো যে স্মৃতি জমা রেখে গেছিলাম খেজুরের ডালে ডালে
বালুর সিঁড়িতে রেখে গেছিলাম হাঁটার দৃশ্য
একদিন, হাঁটতে হাঁটতে হাঁপিয়ে উঠেছি বড্ড
একটা খেজুরগাছের ছায়ায় বসেছিলাম একদন্ড,
প্রিয়তমার বেণিতে লুকিয়ে পড়েছিলো আমার ঠোঁট
আর,আমার টি শার্টের খাঁজে, তার চকমকি হাত
খেজুরগাছের নিচে যেখানে নিতম্ব ছুঁয়েছিলো তার——
ওখানে গজিয়ে উঠেছিলো সুর্যমুখি রোদ
বিজন চারপাশ——কিছু ক্যাক্টাস রোদ খাচ্ছে দাঁড়িয়ে
মাঝে মধ্যে উটের সারি, চলে যাচ্ছে দৃষ্টির বাইরে
ঠিক তখনই প্রিয়তমার ঠোঁট থেকে টুকটুকে একটা চুম্বন
উড়ে এসে, আমার ভেতর ঝড় তুলেছিলো

ওখানে আর নিতম্বের চিহ্ন নেই, সূর্যমুখি রোদও নেই!



ইনান্না

এক রাতে——দারুণ বসন্তে
আমি ইনান্নাকে দেখি——
যেনো ইকারুস তার দগ্ধ ডানার ছাইয়ে ইনান্নাক
লুকিয়ে রেখে আমাকে বুঝাতে চায়,
আমি ইনান্নাকে পাগলের মতো খুঁজি

সত্যি সত্যি একদিন তাকে খুঁজতে বের হই——

মৃতপ্রায় এক বিকেলে, যাই রমনায়,
এখানে রোদের ভেতর দিয়ে লেকগুলো
হেঁটে যাচ্ছে রেইন্ট্রির দিকে——
তারপর যাই শালিমারবাগে——
অসংখ্য আইভিলতা আর বটের অন্ধকার এখানে
তারপর যাই ভার্সাই,ওখানে ফরাসিদের আনাগোনা বেশি

ব্যাবিলনে, নামের বিভ্রাটের কারণে পেতে পেতে পাইনি
একবার ভাবি,উরুকে যাই——
কেউ তো আছে——তার আত্মীয়
দেখি এখানেই, ইনান্না মন্দিরে আধখসা একটা দেয়ালে ঝুলছে
সিংহ ও পাখির অবয়বে

আবার বসন্ত আসে——
আমার জীবনের বসন্ত মানে ইনান্না
ঘুমিয়ে যাই, স্থির হই——
অনুভবে হাঁটিতে থাকি, স্বপ্নের ভেতর দৌড়াই
ইনান্না আমার অস্তিত্ব থেকে খুব সাবধানে সরে যাচ্ছে



উপসচিব

বাদামী টাওয়ারে বসে আছে আজরাইল——
গাণিতিক সুত্র নিয়ে ভাবছে
মানুষের সংখ্যা, এতো দীর্ঘ হচ্ছে কেন!

টাওয়ার বাড়ির মালিক——অতিশক্তিধর, উপসচিব
আয়ুর কোন সীমানা প্রাচীর নেই তার
বয়সের ভারে কুঁজে গেছে মেরুদন্ড
সদর্পে, হেলেদুলে অফিস করেন
ভাবেন, কাঁচঘরে নিজের সংসার ঢুকিয়ে দিয়ে
একদিন ঈশ্বরকে দাঁত কেলিয়ে বলবেন——
“আয়ু বলে কিছু নেই পৃথিবীতে”

ভাবেন, কুমিরের পেটের সুগভীরে রেখে আসি সংসার
কুমিরের চকমকি দীর্ঘ দাঁত
সজারুর কাঁটার মতোন ঘিরে রাখবে তাকে

টাওয়ারে বসে আজরাইল হাসে
ঈশ^রের আদালতে পিনপতন নিরাবতা——

প্রথমে,আজরাইল কুমিরের নদী খোলে
জলসড়কে প্রচুর ভিড়ভাট্টা. যানজোট——
ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মাছ, বড় মাছ, কুমির—আরো অসংখ্য জলজ প্রাণী
অতঃপর কাঁটাযুক্ত বিশালকায় সেই কুমির খুঁজে পায়
দেখলেন, কুমিরের পেটে উপসচিব নেই

এরপর——
আজরাইল মহোদয়, পৃথিবীর সমস্ত কাঁচঘর খুঁজে খুঁজে
রেসকোর্স ময়দানে একত্রিত করেন,
শেষ প্রান্ত থেকে একটি কাঁচঘর কেঁপে ওঠে
আজরাইল হাসে——রেসকোর্স ঝলকে ওঠে
ঈশ্বর তার কুরসিতে বসে হাসছে, হেলেদুলে


আরো পড়ুন.. 
অন্ধ আয়নার গল্প পড়ুন এখানে
মেডিকেল ও কাঁটাপাথর এখানে পড়ুন
গোলাম কিবরিয়া পিনু'কর্মকান্ড নিয়ে বিন্তর আলোচনা পড়ুন
৫টি কবিতা পড়ুন এখান
সোনালী কাবিন পাঠ আলোচনা এখানে
পাঁচটি কবিতা পড়ুন
ঝাউপাতার ঝাঁপতাল এখানে পড়ুন
ছবি আর্কাইভ ১ দেখুন
দেহখানি তার চিকন চাঁদ এখানে
নীলিতারা পড়ুন
দ্বীপ সরকার পরিচিতি পড়ুন
যোগাযোগ করুন এখানে



সেই এক তারার গল্প

একদিন খিড়কিতে দাঁড়িয়ে——
রাধার মতো ঝুলে আছে ওপাশে এক তারা
আমি এই পাশে বৃন্দাবনি হাওয়া
সন্ধ্যার ছুপ ছুপ কালো, ঢেকে নিচ্ছে চারপাশ

সেই এক তারার গল্প———
সেই এক ‘তুমি’র গল্প———

তুমি নিঃশব্দে খিড়কি খুললে,
তোমার আলোয় আমি হয়ে উঠেছিলাম চকমকি আয়না
আমার আয়নায়, তোমাকে দেখতে পাচ্ছি না
তুমি ধরা দিচ্ছো না,আমি আরো কাছাকাছি হই
আমাদের টইটুম্বর চোখে, লক্ষকোটি আশার আলো

তুমি বিশ্বাস করতে পারলে না—
আমি সত্যি অন্ধকার, নাকি আলো?
আমি আয়না, নাকি মুখোস?

তুমি ওপাশ থেকে হ্যারিকেন জ্বালালে
আর আমি, আলোকিত হয়ে গেলাম
তুমি প্রমাণ করলে, আমি সত্যি অন্ধকার

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ