নামহীন কবির চিঠি - একটি অস্তিত্ববাদী গল্প
দ্বীপ সরকার
দেশের সাহিত্য পত্রিকাগুলোর মধ্যে হঠাৎ এক অদ্ভুত স্রোত বইতে শুরু করে। প্রতি সপ্তাহে কবিতা প্রকাশিত হচ্ছে, কোন না কোন সাহিত্য পাতায়। কিন্তু কবির নাম নেই। শুধু নিচে লেখা থাকে—‘পরিচয়হীন’। প্রথম দিকে কেউ গুরুত্ব দেয়নি। কিন্তু ধীরে ধীরে তার কবিতাগুলো পাঠকের ভেতরে এক অদ্ভুত আলোড়ন তৈরি হলো। কবিতাগুলো যেন কারো ব্যক্তিগত অথচ সর্বজনীন। আবার কারো একান্ত, শুধুই একান্ত। কবিতার ভেতর দিয়ে বযে যায় শুধুই স্বীকারোক্তি, সেই স্বীকারোক্তি আবার সকলেরই অন্তরের ভাষা। হৃদয়ের গহীন থেকে তুলে আনা শব্দ ভান্ডার। কোন জোর—জবরদস্তি নেই, জোর করে শব্দ ব্যবহার নেই, অতিরিক্ত অলংকার নেই, কেবল চিন্তার গভীরতা—যা একার নয়,বরং সকলের। পাঠকরা বলতে শুরু করে—এই কবি যেনো তাদের মনের ভেতরে বসেই লিখছে। পত্রিকার সম্পাদকগণও বিস্মিত। বিভাগীয় বা ফিচার সম্পাদকগণ একে ওপরে কথা বলে—কবিতায় তার জীবনবোধের এতো সরল ঝড় তা আর কেউ লিখতে পারছে না। কবিতাগুলো ডাকযোগে আসে। খামের ভেতরে শুধু একটি সাদা কাগজ, তাতে হাতে লেখা মুল কবিতা, নিচে লেখা থাকে ‘পরিচয়হীন’। এর বাইরে আর কিছুই লেখা থাকে না। কিন্ত কবিতা পাঠকের মনে ঘুঘু পাখির মতো বাসা বাঁধতে শুরু করেছে। এই রহস্যের ডামাডোলের মাঝেই আবির্ভাব হলো সাংবাদিক চকর মালিথার। সে ঢাকার একজন পরিচিত অনুসন্ধানী সাংবাদিক। নাম ডাকের কমতি নেই। রাজনীতি, দুর্নীতি, অপরাধ—সবকিছু নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞাত, ঝুলিতে জমা পড়েছে অনেক। কিন্তু এই প্রথম সে এমন একটি বিষয় নিয়ে আগ্রহী হলো, যার কোনো দৃশ্যমান অপরাধ নেই—না দূর্নীতি,না রাজনীতি বা আরো আরো.....। শুধু একটি অনুপস্থিতি-পরিচয়হীনতা নিয়ে তাকে কাজ করতে হবে,বিষয়টি কম জটিল নয়। মালিথা ভাবলো—যে নিজের নাম লুকিয়ে রাখে, সে কোন কিছু লুকাচ্ছে হয়তো। নাকি সে সত্যিই নামের ঊর্ধ্বে থাকতে চান। যদি চান,তবে তাতে উপকার কী। কী লাভ,কী ক্ষতি। এরকম প্রাথমিক ধারণার কাছে একবার ধরনা দিলো মালিথা। রহস্যকে প্রকাশ্যে আনা—এটার জন্য কিছু প্রস্তুতির প্রয়োজন আছে বৈকি। মালিথা একদিন প্রথম আলোর সাহিত্য সম্পাদককে জিজ্ঞেস করলেন,
— এই যে পরিচয়হীন কবি,আপনারা পরিচয়হীন, ঠিকানাহীন কবির লেখা প্রকাশ করছেন কেন?
—আমি মনে করি,“পরিচয়হীন”এটাই তার নাম পরিচয়। হতে পারে ছদ্ম নাম।
মালিথার নিকট পরিস্কার হলো,তারা এটাকে ছদ্ম নাম ভাবছে। কিন্তু আসল রহস্য তো এইটা হতে পারে না। মালিথা এবার প্রশ্ন করলো,
—আপনি কি জানেন, কে পাঠায় এগুলো? একজন পাঠক হিসেবে আমি জানতে চাই?
সাহিত্য সম্পাদক মাথা নাড়লেন।
— না, জানি না। কিন্তু আমি জানি, এই কবি সত্যিকারের কবি। এমন ভাষা বানানো যায় না। সত্যি তার চিন্তার মাপকাঠি অনেক গভীর। তিনি নামে বিশ্বাসী নন।
মালিথা বিঃসম্পদকের কাছে তার পাঠানো চিঠির একটা খাম চাইলেন। সম্পাদক মহোদয় অনেক কষ্টে একটি খাম খুঁজে তার হাতে দিলেন। মালিথা খামের ওপরের পোস্টমার্ক পরীক্ষা করলো। ঢাকার ভেতর থেকেই পাঠানো হয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো এলাকা বোঝা যাচ্ছে না। ধারণা আরো পরিস্কার করার জন্য জনকণ্ঠের কাছে গেলো। মিলু শামস অনেক ভদ্র বিভাগীয় সম্পাদক। তার কাছে জানতে চাইলে তিনিও বলেলেন,জানি না। ‘পরিচয়হীন’ কবির লেখা অনেক ছেপেছি। এরপর চিঠির খাম চাইলে তিনিও খুঁজে গোটা তিনেক পেয়েছিলো,সেটা মালিথার হাতে দিলো। এখানেও অনেক অস্পষ্টতা। ডাক ঠিকানার নাম বোঝা যায়,কিন্ত এর বাইরে আর কিছু বোঝা যায় না। এগুলো ডাইরিতে নোট করে রাখলো। মিলু শামস মালিথার আগ্রহকে সাধুবাদ জানালে সেও হাত নাড়িয়ে বিদায় নিলেন। ভাবলো, অভিজ্ঞতার ওপরে নির্ভর করে কাজ শুরু করতে হবে। পরের দিন থেকে তদন্ত শুরু হলো।
প্রথমে সে পত্রিকা বিক্রয় দোকানে এসে কয়েকজন পাঠকের সাথে কথা বললো। কেউ বললো,এই কবি নিশ্চয়ই কোন বড় লেখক, নিজের পরিচয় লুকিয়ে রেখে পরীক্ষা করছে তাকে কেউ চিনবে কি না। কেউ বললো—হতে পারে, কোনো সাধারণ মানুষের মতো একজন কবি, যার বলার কিছু আছে, কিন্তু সমাজ তাকে নাম দেয়নি। আরেকজন বললো—কবি ভালো বুঝেছে,এ যুগে কেউ কাউকে স্বীকৃতি দিতে চায় না।
মালিথা সবশেষের পাঠকের মন্তব্য গুরুত্ব দিতে চায়। আসলে আমরা এমন সময় পার করছি,কেউ কাউকে বুঝি না,বুঝতে চাই না। স্বীকৃতি দিকে গেলে উদারতার প্রয়োজন, এমন উদারতা হয়তো সত্যি সংকট। মালিথা বুঝলো, একজন কবির অনুপস্থিতি, অন্য সকল মানুষকে নিজের মতো করে গল্প বানাতে বাধ্য করছে। যেনো নাম না থাকলে মানুষ নিজেই নাম বসিয়ে দিতে পারে। দারুন উদার কবি। হতে পারে এটাই সত্যি।
একদিন মালিথা, নিজেই সেই কবিতাগুলো পড়তে শুরু করলো। একটিতে আংশিক এরকম,
“আমি,নামের ভেতর বন্দি হতে চাই না,
কারণ নাম মানে সীমা,
আর আমি সীমাহীন হতে চাই—
যদিও জানি, সীমাহীনতা মানেই শূন্যতা।”
মালিথা থেমে গেলো। তার মনে হলো, এই কবি শুধু লুকিয়ে আছে তা নয়—সে ইচ্ছাকৃতভাবে নিজেকে মুছে ফেলতে চায়। কবিতার ভেতরে শব্দের ঘনঘটা নেই,অলংকার নেই,শুধু ভাবের গভীরতা। অজস্র প্রশ্ন লুকিয়ে আছে এর মধ্যে। সেই রাতে মালিথার নিজের মনে অদ্ভুত প্রশ্ন জাগলো—আমার নাম কি আমাকে সংজ্ঞায়িত করে? নাকি আমি, আমার নামের বাইরে কিছু? আমরা তো মুলত নামসর্বস্ব সাইনবোর্ডের মতো। যেখানে নামের বাইরে আর কিছু নেই। পরদিন সে ডাইরির নোট অনুযায়ী একটি পোস্ট অফিসে গেলো। কেরানীগঞ্জ পোস্ট অফিস। একে ওকে জিজ্ঞেস করে একজন বৃদ্ধ কর্মচারীাকে পেলো। নাম, সমসের মজুমদার। তাকে বললো,
— আপনার এই পোস্ট অফিসে একজন মাঝে মধ্যে চিঠি পোস্ট করে। এ বিষযে আপনি কিছু জানেন ? বৃদ্ধ সমসের মজুমদার ভাঙ্গা ভাঙ্গা গলায় বললো,
— আসে তো অনেক মানুষ। কিন্তু একজন আসে, সবসময় একই সময়ে। ঠিক বিকেল তিনটার পর। সপ্তাহে দুই তিন দিন আসে। কথা কম কয়। কিন্তু চোখে এমন একটা দৃষ্টি থাকে, যেনো সে এখানে নেই। উদাস উদাস লাগে।
—আপনি চিনতে পারবেন?
—অবশ্যই পারবো, কন কি।
মালিথা অপেক্ষা করতে লাগলো। বারোটার দিকে পোস্ট অফিসে ঢুকেছে। তিনটা বাজতে হাতে অনেক সময় এখনো। মালিথা বললো,
—আঙ্কেল এখন আসি। তিনটার সময় আমি আসবো আবার।
তিনটার একটু আগে মালিথা পোস্ট অফিসে আসে। বৃদ্ধ কর্মচারী তাকে কাঠের চেয়ার এগিয়ে দেয়। মালিথা বসে আছে। তিনটার দুই তিন মিনিট পর, একজন মানুষ আসলো। সাধারণ পোশাক, মাঝবয়সী। সে খাম জমা দিলো ঢোলে। কোনো তাড়াহুড়া নেই। বৃদ্ধ কর্মচারী চোখের ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিলো-এইটা সেই লোক। মালিথা ঘাড় নাড়িয়ে জবাব দিলো— ওকে। লোকটি তার কাজ সেরে চলে যাচ্ছে। মালিথা তাকে অনুসরণ করতে থাকলো। লোকটি একটি পুরনো সাইকেল ঠেলে কেরানীগঞ্জের ভিড় পেরিয়ে এক পুরোনো গলিতে ঢুকলো। জিঞ্জিরার ভেতরের গলির দিকে। চারপাশটা ঘুঞ্জি,বস্তির মতো। কিছু বাড়ি পুরনো ইট বালির তৈরি,কিছু টিনশেড। লোকটি একেবারে শেষের একটি ভাঙাচোরা বাড়ির সামনে থামলো এবং নিজেই দরজা খুলে ভেতরে ঢুকলো। মালিথা অনুসরণ পায়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলো। তারপর দরজায় কড়া নাড়লে ভেতর থেকে কণ্ঠ এলো,
—কে?
—আমি... আপনার একজন ভক্ত পাঠক।
দরজা খুললো। সেই লোকটি দাঁড়িয়ে সামনে। শ্যমলা রঙের শরীর নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। চোখে অদ্ভুত প্রশান্তির ছাপ লক্ষ্যনীয়। চোখে একটি কালো ফ্রেমের পাওয়ার চশমা। অল্প দামের একটি জিন্স আর শরীর ঢেকে আছে— বোঝা যায় ফুটপাথ থেকে কেনা একটি অল্প দামের সাদা টি শার্ট দিয়ে। একেবারে মাটির মানুষ। মালিথা জিজ্ঞেস করে,
—আপনি কি সেই ‘পরিচয়হীন’ কবি?
লোকটি নরম করে হাসলো, বললো,
—আমি কবি কি না জানি না। তবে আপনি কি নাম খুঁজতে এসেছেন?
মালিথা সরাসরি বললো,
—হ্যাঁ। মানুষ জানতে চায়, আপনি কে? আপনার নাম কি?
লোকটি চুপ করে থাকলো কিছুক্ষণ। তারপর বললো,
—মানুষ কেন জানতে চায়?
মালিথা বললো,
—কারণ নাম ছাড়া কেউ সম্পূর্ণ নয়।
লোকটি বিস্ময় নিয়ে বললো,
—তাহলে কি আমি অসম্পূর্ণ?
মালিথা থমকে গেলো। লোকটি সাংবাদিককে সম্মান প্রদর্শন করে বললো,
—সে কি,দরজায় থেকে সব কথা হয় না কি। আসুন।
মালিথা কবির ঘরে ঢুকলো। ঘরের ভেতরে কোনো আসবাব নেই, শুধু একটি টেবিল, কাগজ আর কলম। জানালা দিয়ে আলো ঢুকছে একটু একটু। ক্ষয়ে যাওয়া দেয়ালের উত্তর দিকে একটা পুরনো ময়লাযুক্ত লাইট ঝুলে আছে। মালিথা বিস্মিত হচ্ছে। লোকটি বললো,
—আমি কেবল লিখি, কারণ আমার ভেতরে শব্দকে জমিয়ে রাখতে পারি না। এমন কি চিন্তাকেও। মনে যা আসে তাই লিখি। নাম দিলে সেই শব্দ এবং চিন্তাগুলো একান্তই আমার হয়ে যায়। আমি তা চাই না। আমি চাই, সেগুলো কারো ব্যক্তিগত না হোক—বরং সকলের হোক।
মালিথা বললো,
—কিন্তু আপনি তো আছেন। আপনার অস্তিত্ব আছে?
লোকটি বললো,
—অস্তিত্ব কি নামে নির্ভর করে?
মালিথা কোনো উত্তর খুঁজে পেলো না। লোকটি আবার বললো,
—আপনি সাংবাদিক নিশ্চয়। আপনার নাম আছে, পরিচয় আছে। কিন্তু আপনি কি নিজেকে জানেন? কোনদিন এই প্রশ্ন করেছিলেন নিজেকে? এই প্রশ্ন মালিথাকে কাঁপিয়ে দিলো। সে হঠাৎ উপলব্ধি করলো—সত্যি তো, সে সবসময় অন্যের পরিচয় খুঁজেছে, কিন্তু নিজের পরিচয় নিয়ে কখনও ভাবেনি। লোকটি বললো,
— আপনি কি পালাচ্ছেন?
— না। আমি মুক্ত হচ্ছি।
— কিসের থেকে?
— নাম থেকে। পরিচয় থেকে।
মালিথার কণ্ঠ ভারি হয়ে আসলো। বললো,
— কিন্তু মানুষ তো আপনাকে ভালোবাসে। তারা আপনাকে জানতে চায়।
লোকটি মৃদু হাসলো কিছুটা গোপন রেখে।
— নিশ্চয় তারা আমাকে নয়, নিজেদের অনুভূতিকে ভালোবাসে। আমি শুধু আয়না। এই আয়নাকে নির্ভর করেই মানুষ নিজেকে দেখতে চায় না। কারণ,আয়না যা দেখায় তা কেবল মুখোস। কিছুক্ষণ নীরবতা উভয়ের মধ্যে। মালিথা বুঝতে পারলো, সে কোনো অপরাধীকে খুঁজে পায়নি। সে খুঁজে পেয়েছে এক ধরনের অস্বীকারকে—সমাজের নিয়মের বিরুদ্ধে এক নিঃশব্দ বিদ্রোহীকে।
মালিথা আবার জিজ্ঞেস করে,
—আপনি কি কখনো নিজের নাম বলতে চাননি?
—চেয়েছি। কিন্তু বুঝেছি, নাম বললেই আমি সীমাবদ্ধ হয়ে যাবো। তখন আমার লেখা আর সবার থাকবে না—শুধু আমার হয়ে যাবে।
—তাহলে আপনি কে?
লোকটি জানালার দিকে তাকালো। হাত উঁচু করে আকাশের দিকে আঙুল ধরে বললো,
—আমি এইরকম শূন্যতা, যেখানে সবাই নিজের নাম খুঁজে পায়।
এই উত্তর মালিথাকে আরও অন্ধকারে ঠেলে দিলো। সেই অন্ধকারে এক ধরনের আলোর আভাস আছে। কিন্তু এই কবি তো সেটুকুন আলোও গ্রহণ করতে চান না। মালিথা বাড়ি ফিরে এলো। রিপোর্ট লিখতে বসলো। কিন্তু লিখতে গিয়ে থেমে যাচ্ছে বারবার। সে কি লিখবে? একজন কবির নাম নেই। সে নিজের পরিচয় লুকিয়েছে। এসব তথ্য কি যথেষ্ট একটা আর্টিকেলের জন্য? বিড়িতে মুখ ঠেকায় বারবার। চা তো কয়েক কাপ শেষ। আসলে কি লিখা প্রয়োজন। পরিচিত অনেক কলিগ,বন্ধু সাংবকদিকগণ জেনে ফেলেছে তার অনুসন্ধানের কথা। সে হঠাৎ বুঝতে পারলো—এই গল্পের আসল বিষয়— নামহীন কবি নয়, বরং “নাম” নিজেই কবিতা। কবিতার মালিক সর্বজনীন। পরদিন সে একটি লেখা প্রকাশ করলো—শিরোনাম: “যে নেই, সেই—ই আছে”। সে লিখলো না কবির নাম, কোন ঠিকানা। শুধু লিখলো,“একজন মানুষ আছেন, যিনি নিজের নাম মুছে দিয়ে আমাদের সামনে প্রশ্ন রেখে গেছেন—আমরা কি আমাদের নামের চেয়ে উর্দ্ধে উঠতে পারবো না? পাঠকেরা বিস্মিত হলো। কেউ বললো—মিথ্যা কথা,মালিথা সত্যটা লুকিয়েছে। কেউ বললো—সে কবিকে রক্ষা করতে চাইছে। কেউ বললো—তাতে মালিথার লাভ কী? কিন্তু মালিথা জানতো, সে বরং নিজেকে রক্ষা করতে পেরেছে। কারণ,সে তো নাম ছাড়া কোন দিন কিছু লেখেন নি। নাম মানে সংকীর্ণতা অন্যদিকে ভাবলে স্বার্থবাদীতা। আমরা মুলত সেরকম লেখক। সে এটা বুঝেছে—পরিচয় সবসময় প্রকাশের বিষয় নয়, কখনও কখনও তা এক ধরনের বোঝার ব্যপার। সেই রাতে মালিথা ঘরের সবগুলো লাইট দিয়ে আয়নায় দাড়িয়ে নিজের দিকে তাকালো। তার সমস্ত শরীরজুড়ে অস্তিত্ব আছে,অবয়ব আছে। তার মনে হলো, নিজের সকল কিছু থাকা মানেই সংকীর্ণতা এবং স্বার্থবাদীতা। মানুষের জন্য তথা সকলের জন্য তো কিছু একটা বাকি রাখা দরকার। সবকিছু থাকা মানেই অসম্পন্ন সত্ত্বা। বরং সকলের জন্য রেখে গেলেই সেটা সম্পুর্ণতা। নিজের নাম উচ্চারণ করলে, যেনো কিছু একটা হারিয়ে যায় সত্যি। যেনো “চকর মালিথা" এমন একটি শব্দবন্ধ, যার ভেতরে সে সম্পূর্ণরুপে সীমাবদ্ধ।
মালিথা ফিসফিস করে আয়নাকে বললো—
—আমি কে?
আয়না বললো,
—কেউ না।
আয়না হয়তো সত্যটা বলেছে। মালিথা মানে সীমাবদ্ধ এক সাংবাদিক। যার নাম ছাড়া কিছুই নেই। অল্পক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকলো। সেই নীরবতার ভেতর সে অনুভব করলো—অস্তিত্ব মানে হয়তো উত্তর পাওয়া নয়, বরং প্রশ্ন নিয়ে বেঁচে থাকা।
পরের দিন সকালে প্রথম আলোর সাহিত্য পাতায় ফের চোখে পড়লো পরিচয়হীন কবির কবিতা। তার আংশিক এরকম—
“যেখানে কোনো নাম নেই
সেখানেই সব আছে।”
আরো পড়ুন...
মিনিখ ও মেরাজের নৈঃশব্দ পড়ুন এখানে
কবিতা অরফিয়াস পড়ুন এখানে
বাংলা একাডেমি পড়ুন এখানে
মাটির হেঁসেল পড়ুন এখানে
উপসচিব ও অন্যান্য কবিতা পড়ুন
ছবি ব্লগ কিস্তি ২ এখানে
জুবিলিদের পাশের বাড়ির মেয়েটি পড়ুন এখানে
কবিতা উপসচিব ও অন্যান্য পড়ুন এখানে
অন্ধ আয়নার গল্প পড়ুন এখানে


0 মন্তব্যসমূহ
ধন্যবাদ আপনাকে