গুচ্ছকবিতা। দ্বীপ সরকার
সাদা পাঞ্জাবি
পৃথিবীতে, ট্রাম্প ঝড় তুলেছে দেখার মতোন
সেই ঝড়ে মানুষের রক্ত,
চিংড়ি মাছের রক্তের মতোন সাদা হয়ে যাচ্ছে
আমাদের পাঞ্জাবিটা চিংড়ি মাছের মতোন ধবধবে সাদা
ঈদের মাঠে বেরোচ্ছি
কতো আনন্দ, হুল্লোর, সেমাই, খেজুর——ইয়াত্তা নেই
কিন্তু আমার সাদা পাঞ্জাবীটা বেঁকে বসেছে
শরীর থেকে খুলে খুলে দৌড়োচ্ছে এদিক সেদিক
ফের পরছি, ফের খুলে যায় শরীর থেকে
পাঞ্জাবি এইবার খট খট করে হেঁটে এসে বলছে,
——ইরানীদের রক্ত কি আজ লাল হবে, নাকি সাদা?
আমি বল্লাম
——সাদা, কারণ ওখানেও তো ঈদ হবে
পাঞ্জাবি বলে উঠলো
——ওখানে আজ ভোর থেকে লাল রক্ত বইতে শুরু করেছে
——তাহলে শরীরে আসছো না কেন?
——না, আপনি মিথ্যাবাদী
আমি মৃত মানুষের ঘ্রাণ বিক্রি করি
আতরের এতো অদৃশ্য গর্জন আগে দেখিনি
কানের লতির ভেতর আতর—তুলো গুঁজিয়ে দিচ্ছি
আতর তবু গর্জে ওঠে
আতর বলছে, আজ আমাদের দৌড়োনোর দিন
পাশের বাড়ির চামেলি আসে বাড়িতে,খবর দিতে
তার অসুস্থ মা ভোরে মারা গেছেন!
একটু পর রিয়া আসে সেমাই হাতে
একদিকে সেমাইয়ের ঘ্রাণ
আরেকদিকে চামেলির মৃত মায়ের ধুপের গন্ধ
কেউ কারো সাথে মিলমিশ হচ্ছে না
ধুপের স্রোতে বয়ে চলেছে চামেলির মা!
আর আমাদের ভেতর ঈদ!
ঈদের মাঠে সাদা ঘোড়া দৌড়োচ্ছে আনন্দে
চামেলি দৌড়োচ্ছে গোরের সরু রাস্তার দিকে
আর রিয়া, সেমাইয়ের কাদা রাস্তায়
আমি দৌড়োচ্ছি ভুল সিদ্ধান্তের স্রোতে
কানের আতর আমাকে তাড়া করছে,
ঈদের মাঠে যেনো আমি তাকে বিক্রি করি
অথচ,আমি বিক্রি করতে এসেছি ধূপের গন্ধ
“এই ধুপের গন্ধ নিবি, ধুপের গন্ধ
চামেলির মায়ের শরীর থেকে কিনেছিলাম এক চিলতে”
মুসল্লিগণ কচকচে টাকা বের করে বলে,
——এক সিসি ধূপের গন্ধ দিন
আরেকজন বললো
——আমাকে আতরের ঘ্রাণ দিন এক সিসি
পরের জনকে বললাম,
আমি আতর বিক্রেতা নই!
আমি মৃত মানুষের ঘ্রাণ বিক্রি করি!
একটা নিরপরাধ সেহরির বিদায়
এই তো, তিরিশ দিন আগে কোন ভোরে,
লজ্জাবতি ইনান্নার মতো
দরজায় এসে টোকা দিয়ে বলেছিলে
——আমি আবার এসেছি, আমাকে নেবে না?
আমি আনন্দে আত্নহারা হই
যেনো আমার ভেতরে ঝড়, তছনছ করে যাচ্ছে
বলি— সে কি, আসো বসো
তখন আমার উঠোন রোশনি হয়ে ওঠে
আমি খুশিতে পিঁড়ি দিছিলাম বসতে
এর পর যখন,আমার পাতে তুলে দিচ্ছিলে
মাছের ঝোল আর রুপোলি রঙের ভাত
স্বাদ মতো খেয়েছি——
আমার ঠোঁটে লেপ্টে গেছিলো মাছঝোলের রং
এভাবে প্রতি রাতে আসে, ডাকে——আর আমি
আস্থির প্রেমিকের মতোন ধরফর করে উঠি
ঘুমঘোরের পরওয়া করিনি,
প্রিয়তমা আসলে ঘুম আবার কি!
পূথিবীতে মুসলিম দেশগুলো তুমি একাই সামলাও
আমার ঘর, আমার দেশ, এ দেশ, ও দেশ
তুমি হাঁপিয়ে ওঠোনা, তোমার কি দম নেই একদন্ড?
অথচ, এভাবে গুট্টিগাট্টি বেঁধে তুমি চলে যাচ্ছো
ঈশ্বরকে বলে কোয়ে
আর ক’টা দিন থেকে যেতে পারতে
রাহমান ওয়াহিদের সুস্মিতা
উৎসর্গ, কবি রাহমান ওয়াহিদকে
হতাশা থেকে বের হয়ে একবার আকাশের দিকে তাকান,
দেখবেন,আকাশের মানসিক সড়ক কতোটা দীর্ঘ আর ল¤^া
এই সড়কে একবার চড়েন, অজস্র প্রশান্তির দেখা পাবেন
সাদা ঘোড়ার মতোন তারা দৌড়াচ্ছে আনন্দে
কিছু নীল, এখনো ধরে রেখেছে আকাশের ডানা
এই নীলগুলো দুঃখকে খেয়ে বাঁচে
দেখবেন, আপনার দুঃখগুলো কমতে শুরু করেছে
আমাদের মতোন, বসন্তের দুঃখও কম ছিলো না
অথচ,সবুজে সবুজে ছেয়ে গেছে তার শরীর
বন বনানীরা, উঠতি বয়েসি রমণীর মতোন যৌবন ফিরে পেয়েছে
শুনেছি,আপনি কবিতা লেখেন——
এক পরন্ত বিকেলে কবিতার সড়কে হাঁটেন
কবিতার কালো অক্ষরগুলো কিরুপ ঝুমুর তুলে নাচছে!
ভাষাগুলো চকচক হয়ে উঠছে
আর মানসিকতার কথা বলছেন?
সে তো বাঁচাও বাঁচাও করে পালাবে
আপনি, হাসবেন তাদের পালানোর দুশ্য দেখে
আর, বলবেন——অনেক হয়েছে, আর নয়
আপনার সুস্মিতা,সবুজ শরীর নিয়ে ফিরবে
আপনি তার জন্য——বুক পকেটটা খালি করুন
যেমনটা, খালি করেছিলেন——প্রথম দেখার দিনে


0 মন্তব্যসমূহ
ধন্যবাদ আপনাকে